মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখতে সুপার কুল!
নাসার প্রধান মহাকাশচারী জোসেফ এম আকাবা একজন আমেরিকান শিক্ষক, হাইড্রোজিওলোজিস্ট ও সাবেক পিস কর্পস স্বেচ্ছাসেবক। ২০০৪ সালের মে মাসে তিনি পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নাসার মহাকাশচারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালে নাসার অ্যাস্ট্রোনট অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত সপ্তাহে তিনি ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর শেষ করেছেন। এই সফরে তিনি তরুণ সমাজ, সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকরী মতবিনিময় করেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনে অংশ নেন এবং তরুণদের মহাকাশ বিজ্ঞান, রোবটিক্স, স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত), গবেষণা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি মহাকাশ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং জলবায়ু সংকটসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে নাসার বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদান এবং আর্টেমিস অ্যাকর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তার সঙ্গে আলাপের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরছেন ডিজিবাংলাটেক.নিউজ নির্বাহী সম্পাদক এস এম ইমদাদুল হক।
প্রশ্ন : শুভ বিকেলে। শুরুতেই জানার ইচ্ছে মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্নটা কিভাবে এলো?
উত্তর: ছোটবেলায় আমার দাদা অ্যাপোলে প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে চাঁদে হাটা নভোচারিদের পুরোনে ফিল্ম দেখাতেন। আমি ভাবতাম, এটাতো দারুণ ব্যাপার। এসময় বিজ্ঞানকল্পো কাহিনী পড়তে শুরু করি। সেগুলো আমাকে দারুণ মজা দিতো। সেখান থেকেই আমি নভোচারী হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করি। অবশ্য নভোচারী হওয়ার আগে আমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের গণিত ও বিজ্ঞাস পড়াতাম। সেই সময়ে নাসা কিছু শিক্ষককে পূর্ণকালীন নভোচারি হিসেবে নিয়োগের সার্কুলার দেয়। এভাবেই আমি শিক্ষক থেকে নভোচারী হওয়ার সুযোগ পাই।
প্রশ্ন: এরপর কীভাবে নভোচারী হলেন আপনি?’
উত্তর: এককালে মেটাল শপ ছিল। চাকরি-বাকরি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন মেরিন কর্পসে। তারপর চলে যাই শান্তি মিশনে, স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। এরপর ফিরে এসে নিলেন শিক্ষকের চাকরি। কেন এগুলো ভুল ছিল, বললেন সে কথাও—স্বেচ্ছাসেবী কাজে একদমই পয়সা নেই, আর শিক্ষকের চাকরিতেও অর্থ তুলনামূলক কম। তবে স্বেচ্ছাসেবী কাজগুলোই নভোচারী হওয়ার পথ গড়ে দিয়েছে। শান্তি মিশন শিখিয়েছে, বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কীভাবে যৌথভাবে কাজ করতে হয়। শিক্ষকতা শিখিয়েছে অদ্ভুত সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। আর মেটাল শপ? আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নানা কাজকর্ম। অনেক তত্ত্বকথার চেয়ে সেখানে গিয়ে হাতে-কলমে কাজ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: ভুলগুলো কি আহত করেছিলো?
উত্তর: ভুল সবাই করে। কেউ যদি বলেন কোনো ভুল করেননি, তবে তা মিথ্যে কথা। ভুল থেকে শিখতে হবে। এই ভুলই তখন গড়ে দেবে ভবিষ্যতে এগিয়ে চলার পথ।’
প্রশ্ন: মহাকাশ যাত্রার প্রস্তুতি ও ঝুঁকিটা কেমন ছিলো?
উত্তর: মহাকাশে যাবার আগে নভোচারীদের অনেক ট্রেনিং করতে হয়। নিয়োগের পর প্রথম দিকে আপনাকে একজন ‘নভোচারী প্রার্থী’ হিসেবে সম্বোধন করা হবে। প্রায় দুই বছরের প্রশিক্ষণো মৌলিক দক্ষতা শিখানো হয়। এরমধ্যে ছিলো স্পেসওয়াক কীভাবে করতে হয়, রোবোটিক হাত ওড়ানো, উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন জেট ওড়ানো ইত্যাদি। এই প্রশিক্ষণ যোগাযোগ দক্ষতা, স্বল্প সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তৈরি করে। এরপর মহাকাশ ফ্লাইট মিশনের নিয়োগ প্রাপ্ত হই। তারপর আরও ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ চলে। প্রথম মহাকাশ মিশনের জন্য প্রস্তুত হতে প্রায় চার বছরের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। নভোচারীরা খুব বেশি পরিশ্রমী হয়ে থাকে। আসলে মহাকাশে যাওয়াটা সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আমরা দীর্ঘ দুই বছর আমাদের প্রশিক্ষণগ্রহণ করেছি। মিশন কন্ট্রোলে বহু লোক আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছেন। তাই আমরা আসলে পৃথিবীতে ফিরে আসা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করিনি। কারণ আমরা জানতাম আমার টিম আমার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে। শুধু স্পেসওয়াকের সময় একটু ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন: এবার একটু মহাকাশ যাত্রার চ্যালেঞ্জিং ও রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলো জানতে চাই-
উত্তর: তিনটি মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আমি ৩০৬ দিন কাটিয়েছি। স্পেস শাটলে আমার প্রথম ফ্লাইটে আমাদের ৮ দশমিক ৫ মিনিট সময় লেগেছিলো। প্রথমবার আমি স্পেস স্টেশন দেখলাম, এত বিশাল! ল্যাবরেটরি, মহাকাশে নির্মিত আমাদের বাড়ি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। এটি সম্ভবত মহাকাশে থাকার প্রথম স্মৃতিগুলোর একটি। আমাদের করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর একটি সম্ভবত স্পেসওয়াক। আমরা মহাকাশ স্টেশনের বাইরে গিয়ে ‘স্পেসওয়াক’ (হাঁটাহাটি) করেছি। আমরা স্পেস স্যুট পরে স্টেশনের বাইরে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা কাজ করতাম। এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে এক্সাইটিং ও বিপজ্জনক কাজ ছিল।
মহাকাশে আমরা মূলত ভেসে বেড়াতাম। তখন আমাদের হাড় ও মাংসপেশি সচল রাখতে প্রতিদিন ঘণ্টা দুয়েক ব্যয়াম করতে হত। কিন্তু মহাকাশে ভেসে বেড়ানোটা দুর্দান্ত। তখন জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখতার আমাদের সুন্দর গ্রহ। এসব স্মৃতি আমি কখনো ভুলব না। বিশেষ করে দুপুরে খাবারের সময়। এটা দারুণ রোমাঞ্চকর সময়। এটাই সম্ভবত আমাদের মিশনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ছিল। আমি নিশ্চিত, আমার হৃদ্যন্ত্রের কম্পন কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। আবার সুখকর অনুভূতিও আছে। আমার মহাকাশে চাষাবাদ করেছিলাম। সেখানে তিন জাতের লেটুস গাছ জন্মিয়ে ছিলাম। এবং সেই লেটুস দিয়ে বার্গার বানিয়ে খেয়েছিলাম। এটা মহাকাশে সবচেয়ে স্মরণীয় গবেষণা বলতে পারেন।
প্রশ্ন: আর ওই পিৎজা পার্টি...
উত্তর: সত্যি স্পেসস্টেশনে সেটা ছিলো দারুণ রোমাঞ্চকর। রাশিয়ান ক্যাসোনাট দিয়ে পিৎজাটি বানানো হয়েছিলো।পিৎজাটি আশ্চর্যজনক সুস্বাদু ছিলো।
প্রশ্ন: মহাকাশযানে ছুড়ে মারা পিৎজা ভাসছিলো, কিন্তু টপিংস পড়ে গেল না কেন?
উত্তর: কারণ সেখানে মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে ছিল, যেখানে মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব অনেক দুর্বল। টপিংগুলি সম্ভবত পড়ে যায়নি কারণ সসটি আঠালো হিসাবে কাজ করে, কম-মাধ্যাকর্ষণ অবস্থা সত্ত্বেও তাদের ভূত্বকের সাথে সংযুক্ত রাখে। এই ধরনের পরিবেশে, অভিকর্ষের কারণে টপিংয়ের প্রাকৃতিক বসতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
প্রশ্ন: তাহলে মহাকাশে কাঁদলে পানি কি মুখের সঙ্গে লেগে থাকে?’
উত্তর: এজন্য প্রায় ওজনহীন পরিবেশে পানির ফোঁটা কেমন করে ভেসে বেড়ায় তা বুঝতে হবে। (মুখ টিপে একটু হেসে) আসলে ‘মহাকাশে কান্না করা নিষেধ!’ কেন? পানি ঢুকে গেলে নষ্ট হতে পারে বৈদ্যুতিক যন্ত্র। চাইলে নিজের কম্পিউটারে পানি ঢেলে দিয়ে কেউ এক্সপেরিমেন্ট করতেই পারে!
প্রশ্ন: এবার আরো একটি কৌতুহলী প্রশ্ন- নভোচারীদের স্পেসস্যুটের কব্জিতে আয়না লাগানো থাকে কেন?
উত্তর: নভোচারীরা এক হাত দিয়ে স্যুটের কন্ট্রোল প্যানেল ঠিকঠাক করেন। তখন অন্য হাতের কব্জির আয়নায় তাকিয়ে সহজেই বুঝতে পারেন, এই হাতে কী করছেন। এ জন্য কন্ট্রোল প্যানেলের লেখাগুলো উল্টো করে লেখা হয়, আয়নায় সেটা সোজা দেখা যায়।

প্রশ্ন: মহাকাশ স্টেশনে থাকাকালে আপনি কোন ধরনের পরীক্ষা বা গবেষণায় যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: সর্বশেষ গত ৫ মাস আগে মহাকাশে যাই, সেখানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাস ছিলাম। পৃথিবী থেকে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে পৌঁছাতে আমার রকেটের আট মিনিট সময় লেগেছিল। আমরা মহাকাশে যাই নানা ধরণের গবেষণা করতে। এর মধ্যে মানব শরীরের রক্ত থেকে শুরু করে নানা উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা চালাই। পরে সেসব নমুনা আমরা পৃথিবীতে পাঠাই, যেন এসব নিয়ে আরও গবেষণা করা যায়৷ আমার সবচেয়ে স্মরণীয় গবেষণাগুলোর একটি, মহাকাশে উদ্ভিদ জন্মানো। সেটা মজার ছিল। একটি বীজ নিলাম, তারপর পানি দিলাম, আর উদ্ভিদের বেড়ে ওঠা নথিভুক্ত করলাম। আমরা আসলেই তিন জাতের লেটুসগাছ জন্মাতে পেরেছিলাম। সেগুলো চাষাবাদ করতে পেরেছিলাম। তারপর সেগুলো খেয়েছিলাম। আসলে আমরা মহাকাশে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা নয়, সেখানে যাই প্রাকৃতিক ও প্রাথমিক বিষয়বস্তুগুলো দেখতে ও উন্মোচনের জন্য। আমরা সেখানে বিজ্ঞানের প্রায়োগিক রূপ নিয়ে কাজ করি।
প্রশ্ন: পৃথিবীকে কেমন দেখায় মহাকাশ থেকে? একজন নভোচারী কী দেখেন?
উত্তর: অপরূপ। আমাদের সুন্দর গ্রহটার নানা রূপ স্তব্ধ করে দেয়। সেখান থেকে বোঝা যায়, আওয়ার প্ল্যানেট ইজ সুপার কুল!
প্রশ্ন: মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীতে ফেরার অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিলে?
উত্তর: নতুন ক্রুদের বুঝিয়ে দিয়ে ছয় মাস পর যখন পৃথিবীতে ফিরলাম, তখন সব কিছু ভারী লাগত; মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্রবল। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর আমাদের ছোটযানটি একটি প্যারাসুটের সহায়তায় ল্যান্ড করে। আমরা যখন নেমে আসি তখন ভূ-পৃষ্ঠে শীতকাল। ভূ-পৃষ্ঠে নামার পর শুরুতে দাঁড়াতে গেলেই আমার বমি আসত, শুয়ে থাকলে সমস্যা হত না। তবে একদিনের মাথায় সে সমস্যা চলে যায়। মানুষের শরীর অভিযোজিত হয়। মহাকাশে গেলে ও ফিরে এলে দুই ক্ষেত্রেই আমাদের শরীর অভিযোজিত হয়। দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফিরে আসা; ঘরে ফেরা খুবই সুখকর ছিল।
প্রশ্ন: মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আসার পর সাধারণ জীবনযাপনে কেমন অনুভুতি হয়?
উত্তর: মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ সব কিছুই ভারী মনে হয়। কারণ মহাকাশে থাকে মাইক্রোগ্রাভিটি। পৃথিবীতে আসার পর একজন নভোচারীর স্বাভাবিক হতে সময় কিছু দিন সময় লাগে। মহাকাশ থেকে আসার পর আমাদের ৪৫ দিন পুনর্বাসনে থাকতে হয়। পরে আমাদের নানা ধরনের মেডিকেল চেক আপ করতে হয়। আমাদের শরীরের কন্ডিশন কেমন আছে এবং আগের মতন স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা দেখা হয়। মহাকাশে থাকা অবস্থায় মাইক্রোগ্রাভিটিতে যদি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শারীরিক চর্চা করা যায়, তাহলে পৃথিবীতে আসার পর তেমন কোনো পরিবর্তন মনে হবে না, সব কিছুই স্বাভাবিক লাগবে।
প্রশ্ন: মহাকাশ অভিযানের সময় সব থেকে দুচিন্তার বিষয় কী থাকে?
উত্তর: মহাকাশে সব থেকে বেশি ভয়ানক বিষয় হচ্ছে আগুন লাগার ঘটনা। সাধারণত পৃথিবীতে বাড়িতে আগুন লাগলে আমরা বাইরে যেতে পারি। কিন্তু মহাকাশে এটা সম্ভব না। পাশাপাশি ছোট ছোট উল্কাপিণ্ড (মিটিয়রয়েড) যখন আঘাত আনে তখন পরিস্থিতি ভয়ানক হয়। মহাকাশে নভোচারীরা যখন স্পেস ওয়াক (মহাকাশে হাঁটা) করে, সে মুহুর্তটা খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে থাকে। আরেকটি ভয়ানক বিষয় হয়, যখন স্পেসে টয়লেট ব্যবহার করা হয় এবং ঠাণ্ডা রাখার জন্য যে সিস্টেমে অ্যামোনিয়া (রাসায়নিক যৌগ) ব্যবহার করা হয়, তখন যদি সেখান থেকে অ্যামোনিয়া লিক করে, সেটা মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে আমাদের নভোচারীদের প্রতিনিয়ত ট্রেনিং করা হয়। পাশাপাশি মহাকাশে নভোচারীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ‘মিশন কনট্রোল’ নামে পৃথিবীতে একটি দল থাকে, তারা সেটি খুঁজে বের করে আমাদের সহযোগিতা করে থাকে। একটি নিরাপদ ও সুন্দর মহাকাশ অভিযানের জন্য সবার টিম ওয়ার্ক ও আগাম প্রস্তুতির সব ট্রেনিং করা খুব বেশি প্রয়োজনীয়। ’

প্রশ্ন: মহাকাশে থাকার দিনগুলো কি মিস করেন?
উত্তর: মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতা অনেক রোমাঞ্চকর। এ দিনগুলো আমি প্রতিনিয়ত মিস করি। তবে পরিবারের সঙ্গে পৃথিবীতে থাকার অনুভূতিটাও চমৎকার হয়। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে আমি মহাকাশে যাই, আমি আশায় আছি আবার কবে সেখানে যাব। তিনি বলেন, মহাকাশে মজার একটি বিষয় হচ্ছে, সেখান থেকে নভোচারীরা চাইলে পৃথিবীতে যে কোনো দেশে যে কারও কাছে ফোনকল করতে পারেন। এই ফোনকলে কোনো প্রকার খরচ নেই। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, সেখানে আমাকে কেউ কল দিতে পারবে না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের তরুণদের নাসায় কাজের সুযোগ কেমন?
উত্তর: নাসার সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি মহাকাশচারীদের জন্য আরো বেশি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের মহাকাশে পাঠাতে কাজ করছে। তাই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষার্থী যদি নভোচারী হতে আগ্রহী হয় তাদের জন্য এটা একটা রোমাঞ্চকর সময়। তাই এমন কিছু করুন যা আপনি ভালোবাসেন। সুযোগ কখন আপনার দুয়ারে এসে হাজির হবে আপনি হয়তো তা জানেন না। তাই প্রস্তুত থাকুন। আমি কিছু সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করেছি যারা নাসা চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামের বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিশ্বে অন্যান্য দেশের মধ্যে তারা খুব ভালো করছে। পুরস্কার জিতে নিচ্ছে। আমি আশা করছি তাদের সমানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই বাংলাদেশ নাসায় কাজে যোগ দেয়া দেশের মধ্যে অন্যতম দেশ হতে পারে। সামগ্রিক ভাবে আর্টিমিস প্রোগ্রামের অংশ হতে পারে। আমার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানো দারুণ সুযোগ হয়েছিলো। তারা সুপার স্মার্ট।
প্রশ্ন: এজন্য আপনার কোনো টিপস আছে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতি..
উত্তার: মহাকাশ টেকনোলজিতে সব সিস্টেমে এটি থাকে। ‘এআই’ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করে। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে এটি আমাদের সহযোগিতা করে থাকে। বর্তমানে নাসার পরিকল্পনা হচ্ছে সব কিছুতে এআই ব্যবহার করা, আর শুধু মহাকাশ অনুসন্ধানের কাজে মানুষের ভূমিকা থাকবে। এআই প্রযুক্তিকে উন্নত করতে নাসা বিভিন্ন দেশে নানান ধরনের প্রতিযোগিতা করে থাকে। বাংলাদেশও এতে অংশ নেয়। বাংলাদেশের কেউ যদি এআই প্রযুক্তি নিয়ে অনেক বেশি উন্নতি করতে পারে, তাহলে নাসায় কাজ করার সুযোগ থাকবে। এমন সব লোকদেরই নাসা খুঁজে থাকে, যাতে করে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মহাকাশে আরও বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারি। বর্তমানে নভোচারীরা চাঁদের থেকে বেশি দূর যেতে পারেননি। তবে ভবিষ্যতে নাসাসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চুক্তির মাধ্যমে মানুষকে চাঁদের থেকেও অনেক দূরে মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমি মনে করি মহাকাশ অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ খুবই চমৎকার। অতীতে মহাকাশ অনুসন্ধান চালাত বিভিন্ন দেশের সরকার, পরে প্রাইভেট সংস্থাও এতে যোগ হয়। এখন সাধারণ মানুষও মহাকাশে যাচ্ছে। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেও মহাকাশ ভ্রমণে যাবে। আমি মনে করি এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে ভালোভাবে পড়াশোনা করার মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণ ও অনুসন্ধানের স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব। কখন কার সুযোগ আসে এটা বলা যায় না, তাই স্বপ্নপূরণে পরিশ্রমী হতে হবে।







